আমি দেখতে কেমন?
আমি দেখতে কেমন?
আসসালামুয়ালিকুম । আমি রাজিব। জীবন নিয়ে পড়াশুনা করি, সুখি হওয়ার অনুশীলন করি। খুব ভালো লাগে জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে।
ভাবছিলাম নিজের চেহারা নিয়ে। বেশিরভাগ সময়ই নিজের চেহারাকে নিয়ে খুব টেনশন হয়। সবার সাথে মিশতেও খারাপ লাগে। এই হীনমন্যতার কারনেই নিজের চেহারা ইউটিউব এ দেখাই না। আমার বয়স ২৭ বছর এখনো এই হীনমন্যতাকে পায়ের নিচে রাখতে পারিনি।
আমি আমার এই জীবনের অনেক কিছুই হারিয়েছি, অনেক আনন্দের মুহূর্তকে নষ্ট করেছি, সবার সাথে কথা বলিনি, সবাই কি বলবে এই চিন্তা করে। আমার শুধুমাত্র এই কারনেই আমি অনেক সুযোগ মিস করেছি।
আমরা নিজেকে ভালোবাসি না কেন? ভেবেছেন কখনো। নিজেদের অজান্তে আমরা এই পরিবেশ তৈরি করেছি। কালোকে সারাজিবন শুনতে হয় সে সুন্দর না। মোটাকে শুনতে হয় মোটা হওয়ার করনে। চিকন মানুষকে শুনতে হয় চিকন হওয়ার কারনে। পরিবেশ এভাবেই চলে আসছে। এই পরিবেশের মধ্য অনেকে এই বুলিং এর কারনে নিজেকে হত্যা করে। কেউ নিজের সুন্দর ক্যরিয়ার নষ্ট করে।
এই হীনমন্যতার শিকল কিভাবে ভাঙবেন? যেহেতু এটা একটা শিকল তাই চাইলেই ছিরে ফেলা সম্ভভ না। নিজেকে শক্তিশালী হতে হবে। নিজেকে প্রশান্ত করে এগুতে হবে আস্তে আস্তে। আল্লাহ বলেন, স্মরণ রেখো, আল্লাহর যিকিরই সেই জিনিস, যা দ্বারা প্রশান্তি লাভ হয়। সুরা রা'দ (১৩ঃ২৮)। সুতরং, আমি আপনাকে যা দান করেছি তা গ্রহন করুন এবং কৃতজ্ঞ হোন। সূরা আরাফ_ ১৪৪ ।
কিভাবে শুরু করবেন?
সফল হতে হলে প্রথম ধাপ হিসেবে এই হিনমন্যতাকে ভাংতে হবে। আপনি আপনার জীবনে দেখা এমন একজন মানুষ খুজে বের করুন যে দেখতে খুবই অসুন্দর এবং সফল। আপনার দেখা এই মানুষ কে মুল রেখে আপনার যাত্রা শুরু করুন। ভাবুন আপনি উনার থেকে বেশি সুন্দর, ফিট অথবা অনান্য। এভাবে আপনাকে প্রতিদিন এগুতে হবে। যেহেতু আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য জান্নাত তাই এটা কে কিভাবে ইসলামিক করা যায় তাই ভাবুন।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে ধনী সাহাবির পাশাপাশি অনেক দরিদ্র সাহাবীও তাদের জীবন সফল ভাবে শেষ করেছেন। এখন তো অনেক ধনী কিন্তু সুখি এমন লোক পাওয়া কঠিন ঠিক একইভাবে অনেক দরিদ্র কিন্তু সুখি এমনটা পাওয়া যায় না। ইসলামের প্রাথমিক যুগে কি কারনে তারা সুখি ছিল? এটা জানার জন্য আপনাকে সময় ব্যয় করতে হবে। খুঁজতে হবে কারন।
আপনি আপনার চেহারা নিয়ে সুখি না কারন আপনার অন্তরে যে আয়না আছে তাতে ধুলো জমেছে। যখন অন্তরের আয়নায় নিজের চেহারা হেখতে পাবেন তখন থাকে আপনি আপনার চেহারা নিয়ে সুখি হতে শুরু করেছেন। নিজেকে পরিতিপ্ত করুন তাদের কথা ভেবে যারা তোমার চেয়ে অসুন্দর চেহারা নিয়ে তৃপ্ত।
আতা ইবনে রাবাহ এর কথা স্মরণ করুন যিনি ক্রিতদাস, নাক বোচা, পক্ষাঘাতগ্রস্তও থেকেও সময়ের সেরা আলেম ছিলেন।
আল আহনাফ ইবনে ক্কাইস তিনি তার এলাকার(আরব) অন্যন্য ধৈর্যের কারনে পরিচিত ছিলেন। ছিলেন সুকনো এর উপর কুজো, খোড়া, দুর্বল।
খুব নিরবে কোথাও বসে মিলিয়ে নিন নিজের জীবনের সাথে ভাবুন কিছু সময়। কৃতজ্ঞ হোন, প্রশন্ত হন।
আল আ-মাশ ছিলেন জনপ্রিয় হাদিস শাস্রবিদ। তার চোখের দৃষ্টি ভালো ছিল না। ছিলেন গরিব। ছেঁড়া পোশাখ।
বর্তমান দুনিয়ায় এই রকম অনেক অসুন্দর মানুষ আছে যারা নিজের দক্ষতা, ব্যবহার সমাজে নিজেকে যোগ্য করে তুলুন। আমার চেহারা সুন্দর না, কথা বললে আমাদে কি ভাববে, আমি শুকনা, আমি অনেক মোটা, আমি কালো, আমার গাল ভাঙ্গা, এই সব কথা পায়ের নিচে চাপা দিয়ে উঠে দাঁড়ান। কৃতজ্ঞ হোন, প্রশন্ত হন। নিজেকে প্রোক্টিভ করুন। দক্ষ হওয়ার জন্য লেগে থাকুন। নিজেকে ভালোবাসুন। অনেক সম্মান করুন নিজেকে।
মহান আল্লাহ আপনাকে এই দুনিয়ার সফল হওয়ার জন্য আপনাকে এই দেহ, এই চেহারা, দিয়েছে। ভালোবাসুন আপনার চেহারাকে। সুক্রিয়া করুন। সফল হবেন। অনর্থক চিন্তা পায়ের নিচে রেখ। জীবনের উদ্দেশ্যের দিকে হাটুন যুদ্ধ করুন সফল হওয়ার সব উপকরন মহান আল্লাহ আপনাকে দিয়েছেন।
Comments
Post a Comment